আয়নাল হকের সফলতার গল্প

February 11, 2025
আয়নাল হকের সফলতার গল্প
মো. আয়নাল হক।বসবাস করেন গাজীপুর সদর উপজেলায়। ২০১৬ সালে ফ্রিজ ওএসি মেরামত শ্রমিক হিসেবে কাতার যান। প্রথমদিকে সেখানে ভালোই চলছিল দিনকাল। কাজ করতেন, আশানুরূপ আয়-রোজগারও করতেন। কিন্তু কয়েক মাস যাওয়ার পরই সেখানে আর্থিকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হন আয়নাল। ফলে ২০১৭ সালে দেশে ফেরত আসেন। বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে অতি অল্প সময়ে দেশে ফেরত আসায় আর্থিকভাবে দারুণ ক্ষতির মুখে পড়ে তার পরিবার। এদিকে দেশে ফেরার কয়েকদিন পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এ পরিস্থিতে নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রেখে শারিরীকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও দক্ষতা অনুযায়ী  ফ্রিজ/এসি মেরামতের মতো ভারী কাজ তিনি করতে পারেন না।

এ অবস্থায় পরিবারে আর্থিক অনটন কথা চিন্তা করে তিনি গাজীপুর সদরের বোর্ড বাজারের পাশে ছোট পরিসরে সবজির ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমদিকে সবজি বিক্রি করার জন্য বাজারে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিলো না তার। বাজারের এক কোনায় বসে সবজি বিক্রি করতেন। তখন তার দৈনিক আয় হতো ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তখন তিনি একটি ভ্যান ক্রয়ের পরিকল্পনা করেন। তিনি মনে করেন, যদি ভ্যান ক্রয় করতে পারেন তাহলে বাজারে এবং বাইরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সবজি বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু ভ্যান কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা তার কাছে ছিল না।

এরইমধ্যে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রেইজ প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারেন আয়নাল। ওই প্রবাসী তাকে বলেন, রেইজ প্রকল্পে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে, যার শ্লেগান- ‘প্রত্যাগত অভিবাসী- ফিরে এলেও পাশে আছি।’ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি নিয়ে গেলেই রেজিস্ট্রেশন করা যায়। এ তথ্যমতে, পরদিন প্রমাণাদি নিয়ে বড়ুয়া ব্যাংকের ঘাট, লঞ্জনীপাড়া, খিলক্ষেত ওয়েলফেয়ার সেন্টার, ঢাকা (উওর) যান। সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে কাউন্সেলিং গ্রহণ করেন। কাউন্সেলিং গ্রহণ করে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। অল্প দিনের মধ্যে তিনি প্রণোদনার ১৩৫০০ টাকা পান। এই টাকা দিয়ে তিনি একটি ভ্যান ক্রয় করেন। এর মাধ্যমে সবজি বিক্রির জন্য একটি স্থায়ী জায়গাও পান। পাশাপাশি ভ্যানে সবজি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সবজি বিক্রি করে বেড়ান। আগে যেখানে ২৫০-৩০০ টাকার সবজি বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে দৈনিক ১২০০-১৪০০ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারেন। এখন তার আয়ের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক ভালো। আয়নাল জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে কাউন্সেলিং তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আর সরকারের এই সামান্য সহায়তা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আমাকে  সাফল্যের দিকে নিয়ে গেছে, ধন্যবাদ রেইজ প্রকল্প।’