অভাবের সংসারে জন্ম। বাবা ছিলেন রিকশাচালক, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। পাঁচ ভাই-বোনের পরিবারে তিন বেলা খাবার জোটানোই ছিল বড় সংগ্রাম। পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নে ২০১৮ সালে সৌদি আরব পাড়ি জমান মুক্তা বেগম।
তাকে বলা হয়েছিল হাসপাতালে চাকরি হবে, মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখা গেল বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হলো, বাসাবাড়ির কাজে বাধ্য করা হলো, অমানবিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের অভাব—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ সময় পার করেন তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়লেও সাহায্য পাননি। অবশেষে হটলাইনে যোগাযোগ ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফিরে শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক কটূক্তিও সহ্য করতে হয়েছে তাকে। একসময় জীবনের প্রতি আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন।
ঠিক সেই সময় প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে তিনি প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের (EWC) সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে নিবন্ধন, কাউন্সেলিং, রেফারেল সেবা এবং ১৩,৫০০ টাকা পুনর্বাসন প্রণোদনা পান। এই কাউন্সেলিং তার জীবনে নতুন আশা ফিরিয়ে আনে।
পরে বয়রা টেকনিক্যাল স্কুল থেকে মোবাইল ফোন মেরামত এবং বিসিক থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রণোদনার অর্থ কাজে লাগিয়ে বর্তমানে তিনি একটি মোবাইল ফোন মেরামত ও মুদি দোকান পরিচালনা করছেন। নিজের পরিশ্রমে সংসারের দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্থানীয় গ্রীণল্যান্ড আবাসন এলাকায় একজন আত্মবিশ্বাসী নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার দোকানে নারী ক্রেতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
মুক্তা বেগম বলেন—
“আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছাই ছিল না। প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের কাউন্সেলিং ও সহযোগিতা আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। আমার মতো কেউ যেন মিথ্যা আশ্বাসে বিদেশ গিয়ে বিপদে না পড়ে—এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
একজন প্রত্যাগত অভিবাসীর জীবনে সঠিক সময়ে দেওয়া সহায়তা কীভাবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে—মুক্তা বেগম তারই একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।