দেশের মাটিতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, চাকরি হারানোর অনিশ্চয়তা, তারপর করোনা মহামারির কারণে দেশে ফিরে আসা—সব মিলিয়ে জীবন যেন থমকে গিয়েছিল সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নের হরগৌরী গ্রামের মো. মুজিবুর রহমানের। ২০০৯ সালে উন্নত জীবনের আশায় তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে কম বেতনে দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়েছে। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জন্য কিছুই থাকত না। একসময় চাকরি হারান, পরে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করলেও করোনা মহামারির কারণে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। দেশে ফিরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় একটি ছোট ফলের দোকান শুরু করেন। ঠিক সেই সময় তিনি সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীদের নিবন্ধন ও রিইন্টিগ্রেশন সহায়তার বিষয়ে জানতে পারেন। নিবন্ধন সম্পন্ন করে কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং রেইজ (RAISE) প্রকল্পের আওতায় ১৩,৫০০ টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা পান। এই সহায়তার অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তিনি ফলের দোকানের পরিসর বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে তার ব্যবসা আগের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে এবং পরিবার নিয়ে স্বাবলম্বী ও সম্মানজনক জীবনযাপন করছেন। মো. মুজিবুর রহমান বলেন, "এই সহায়তা শুধু আর্থিক নয়, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে। বিদেশ ফেরত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সকলের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।" বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের পুনর্বাসন ও আত্মকর্মসংস্থানে রেইজ (RAISE) প্রকল্পের এ ধরনের উদ্যোগ নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।