পাবনা সদর উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম। এলাকায় সরিষা তেল ভাঙানোর মিলে লেবার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করেন। সে অনুযায়ী ২০০৭ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু ধারদেনা করেন। ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৈধভাবে মালয়শিয়াতে কাজ করেন। মালেশিয়ায় তার কষ্টার্জিত উপার্জন তিনি সবই দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু পরিবারের লোকজন কোনো সঞ্চয় না করে পুরো টাকাই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে খরচ করে ফেলে।
২০১৯ সালে সিরাজুলের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে সময়মতো দেশে না ফেরায় প্রায় ৫ মাস জেলহাজতেও থাকতে হয়েছে তার। এ অবস্থায় বাড়িতে যোগাযোগ করলে বাড়ির লোকজন ধারদেনা করে কিছু টাকা মালয়েশিয়ায় পাঠায়। এরপর দেশে ফেরেন সিরাজুল ইসলাম।
সিরাজুল জানান, ‘তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন, একার উপার্জনে পরিবার পরিচালনা করা খুবই কষ্টদায়ক। দেশে ফিরে বেকার হয়ে পড়ি। এ সময় পাবনা ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কর্মীদের প্রচারনার মাদ্যমে বিদেশ ফেরত কর্মীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে জানতে পারি। ওই প্রচারণার সুত্র ধরে সেন্টারে এসে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করি। বেকার অবস্থায় থেকে কি করবো কিছ্ইু ভেবে পাচ্ছিলাম না। ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের স্টাফরা আমাকে কাউন্সেলিং করে। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি, যেহেতু আমার এলাকায় সরিষার উৎপাদন বেশি এবং সেখানে খাঁটি সরিষা তেলের চাহিদাও রয়েছে, তাই এই ব্যবসা লাভজনক হতে পারে। সবকিছু বিবেচনায় ওই ব্যবসা শুরু করার চিন্তা করি। কিছুদিন পরে আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে ১৩৫০০ টাকা পাই। এর মধ্যে ১২০০০ টাকা দিয়ে সরিষা তেলের মিল ভাড়া নিই। নিজস্ব কিছু টাকাসহ বাড়ী হতে কিছু জিনিস বিক্রি করে আরও কিছু টাকা একসাথে করে সরিষা তেলের ব্যবসা শুরু করি। নিজেই সরিষা ভাঙ্গানো ও বিক্রি করি। একটা গরুও পালন করছি। তেল মিলের দৈনিক আয় দিয়ে আমি এখন পরিবার নিয়ে ভাল আছি। ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কাউন্সেলিং পেয়ে জীবনকে নতুন করে সাজাই। বর্তমানে কোন ব্যাংক থেকে কিছু লোন পেলে ব্যবসাটা প্রসারিত করতে পারবো বলে আশা করি।